ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ , ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্দোলন নাকি ইন্ধনঃ ‎শিক্ষকদের সিন্ডিকেটে টালমাটাল শিক্ষা,স্বাস্থ্য কর্মীদের কর্মবিরতির ফাঁদে চিকিৎসা!


আপডেট সময় : ২০২৫-১২-০৪ ১২:৪২:৩৩
আন্দোলন নাকি ইন্ধনঃ ‎শিক্ষকদের সিন্ডিকেটে টালমাটাল শিক্ষা,স্বাস্থ্য কর্মীদের কর্মবিরতির ফাঁদে চিকিৎসা! আন্দোলন নাকি ইন্ধনঃ ‎শিক্ষকদের সিন্ডিকেটে টালমাটাল শিক্ষা,স্বাস্থ্য কর্মীদের কর্মবিরতির ফাঁদে চিকিৎসা!
‎এস এম মামুন, যশোর 

‎কিছু হলেই আন্দোলন! দাবি যৌক্তিক হোক বা অযৌক্তিক যাই হোক আন্দোলন করতেই হবে। রাস্তায় নামতে হবে, দাবি পূরণ করে স্ব-স্ব ঠিকানায় ফিরবে আন্দোলনকারীরা তার আগে নয়। দৃশ্যমান এই প্রতিটি আন্দোলনের সমন্বয়কদের এমনই সব মন্তব্যে হুঙ্কার দিচ্ছে আন্দোলন কারীরা।

‎দেশব্যাপী এমন ভাবে চলছে যৌক্তিক -অযৌক্তিক দাবিকৃত সরকারি বে-সরকারি শিক্ষা,চিকিৎসা সহ সকল ধরনের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম। সম্প্রীতি কয়েকটি আন্দোলনের ফুটেজ বলছে, মফস্বল হতে কেন্দ্রীয় পর্যন্ত এ সব আন্দোলনের সর্বশেষ গন্তব্য স্থল রাজধানী ঢাকা। 
‎এ যেন গেল বছরের ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি। কেউ পেতে দিচ্ছে বুক, হতে চাচ্ছে আবু সাঈদ, মুগ্ধ। অনেকে আবার রাজকীয় বাড়ি রেখে দাবি করছেন মাথাগোঁজার ঠাঁই নাই, খেতে পারছেন না দেশি মুরগী, কিনতে পারছেন না ইলিশ মাছ। অথচ সর্বশেষ প্রাথমিক শিক্ষকদের অযৌক্তিক আন্দোলনেকারীদের বিষয়ে গোপন তথ্য আছে প্রত্যেকেই বিত্তশালী ও একাধিক কর্মসংস্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ‘তার মধ্য বড় ধরনের একটি অপরাধ শিক্ষানীতি বহির্ভূত রমরমা কোচিং বাণিজ্য ও প্রভাব বিস্তার কারী পেশা সাংবাদিকতা।
‎মহান পেশাকে আড়াল করে প্রভাব ও বানিজ্যিক পরিচয়কে ফুটিয়ে স্বার্থ হাচিলের পরও চলছে শিক্ষকদের একের পর এক রাজপথ দখলের পায়তারা। 
‎এ দিকে একই দিনে শিক্ষার সাথে স্বাস্থ্য সেবাদান কর্তৃপক্ষের কর্মবিরতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত শুরু হয়েছে নিন্দার ঝড়।একইদিনে মৌলিক অধিকার শিক্ষার সাথে দেশব্যাপী টানা এগারো দিনের অবস্থান কর্মসূচীতে নেমেছে আরেক মৌলিক অধিকার স্বাস্থ্যখাতের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এতদিন দেশব্যাপী শিক্ষা কেন্দ্রীক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে স্যোসাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষ দেখেছে, শিক্ষকদের অযাচিত দাবি। মহান পেশাকে রাস্তায় নামিয়ে হাস্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে আন্দোলনকারী প্রাথমিক শিক্ষকেরা। অশ্লীল সব বচনভঙ্গি ও শিক্ষকদের রাষ্ট্রদ্রোহী কার্যকলাপে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায়  ধস নামার আশঙ্কার সাথে নতুন করে যুক্ত হয়েছে মাধ্যমিক পর্যায়ের আরও একটি অযৌক্তিক আন্দোলন। যার কবলে পড়তে দেখা গেছে টানা দুই দিন (সোম-মঙ্গলবার) ষষ্ঠ হতে নবম শ্রেণীর বার্ষিক পরিক্ষা অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের। 
‎এদুটি খাতের আন্দোলনরত কর্তৃপক্ষের দাবিকে সম্পূর্ণ  অযৌক্তিক বলে বিভিন্ন ধরনের ইতিবাচক নেতিবাচক মন্তব্যে সড়গড় স্যোসাল মিডিয়া। 
‎অপরদিকে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার পর মাধ্যমিকে চলমান বার্ষিক পরীক্ষা বঞ্চিত  শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা প্রকাশ করছেন ক্ষোভ। এদিকে আবার রোগীরা সরকারি চিকিৎসা সেবার পরিবর্তে হতাশা নিয়ে ফিরেছেন বাড়িতে।
‎গত ৩ দিনের তথ্য মোতাবেক,সারা দেশের ন্যায় যশোরের মণিরামপুর উপজেলাতে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা দাবী আদায়ের লক্ষে ক্লাস বর্জন,প্রতিবাদ সহ নানান সব দাবিতে ছেড়েছেন শ্রেনী কক্ষ,নেমে গেছেন রাজপথে। উপজেলার সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সেচ্চাচারিতা ও আন্দোলনে সম্পৃক্ততার কারনে ২০২৫ ইং সালের চলমান বার্ষিক পরিক্ষা বন্ধ রেখে দাবি আদায়ে ইতিমধ্য সমস্ত ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করে শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকেরা। কয়েক মাস যাবত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলনের সাথে নতুন করে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যোগ দিয়েছে। 
‎তথ্য আছে,চলতি সপ্তাহের ১,২ ডিসেম্বর চলমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ রেখে আন্দোলনে একত্বতা প্রকাশ করে সনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানিরামপুর সরকারি বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমিতি নামীয় সিন্ডিকেট প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। এ বিষয়ে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৌছির আলী জানান,যে ২টা দিন পরিক্ষা নেওয়া হয়নি ঐ ২টা দিন আমি নিজে পরিক্ষার খাতা হলে পৌছে দিলেও সহকারি শিক্ষক কেউ পরিক্ষা হলে ঢোকেন নি।তবে আজ(৩ ডিসেঃ) স্বাভাবিক মিয়মেই চলছে প্রতিষ্ঠান।
‎সকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তথ্য মোতাবেক,বুধবার (৩ ডিসেঃ) পৌরশহরের প্রভাতী বিদ্যাপিঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সকালেই সকল অভিভাবকদের জানিয়ে দেন যে আজেকেট পরিক্ষা স্থগিত। অভিযোগ আছে, উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশনা অমান্য করে জেলা শিক্ষক সমিতির ডাকা আন্দোলনে যাওয়ার আয়োজনে ব্যাস্ত হয়ে পড়েন।এদিকে জেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশক্রমে পরিক্ষা সচল রাখার তাগিদ দিলে দুপুরের আগ মুহূর্তেই বেলা ১টার দিকে আবারও অভিভাবকদের মুটোফোনে জানান পরিক্ষা হবে বাচ্চাদের নিয়ে আসুন। কয়েক ঘন্টার ব্যাবধানে অভিভাবক মহল ক্ষোভ প্রকাশে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে।তাদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক জিএম মাকসুদুর রহমান নিজের খেয়ালখুশি মতো।প্রতিষ্ঠান চালান।সকালে এক কথা দুপুরে এক আবার সন্ধার পরে আরেক রকম কথা বলেন।আরো অভিযোগ উঠেছে,বিগত কয়েকমাস আগে স্থানীয় ও জাতীয় কয়েকটি দৈনিক পত্রিকাতে অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মাকসুদুর রহমান  কয়েকটি শিক্ষা বহির্ভূত কর্মকান্ডের নেতিবাচক সংবাূ প্রকাশ হলেও মোটা অংকের অর্থে রফাদফার মাধ্যমে এখনো তিনি বহাল তবিয়তে থেকে শিক্ষকদের নিয়ে রাষ্ট্রের বিপক্ষে রাষ্ট্রীয় শক্তিকে পুজি করে আন্দোলন বেগবান করছে বলে জানা গেছে।শুধুই মাকসুদুর রহমান নই,শিক্ষাকতার পাশাপাশি একাধিক পদের পরিচয়,সাংবাদিকতার ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দাপটের সহিত অন্যান্য কাজ করে শিক্ষাকতার পেশাকে ভুলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অবস্থান করছে।
‎গোপন তথ্য বলছে, এ সমস্ত শিক্ষকদের ইন্ধন দিয়ে আন্দোলনকে আরো বেগবান করে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে মণিরামপুর উপজেলা হতে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আঃ রউফ ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও দূর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক  এস এম মজনুর রহমান এবং প্রভাতী বিদ্যাপিঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা প্রাথমিক শিষক সমিতির সভাপতি জিএম মাকসুদুর রহমান আন্দোলন সিন্ডিকেট চালাচ্ছে।
‎দুঃখজনক হলেও সত্য যে, দেশের পরিস্থিতি মোতাবেক মণিরামপুরে শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত সংশ্লিষ্টদের আন্দোলনের কবলে পড়ে প্রতিদিনই মৌলিক অধিকার হতে বঞ্চিত হচ্ছে হাজার হাজার সাধারণ জনগন। এ বিষয় ২টির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য কি আন্দোলন নাকি নেপথ্যে ইন্ধন আছে সেটা খতিয়ে দেখার দাবি সচেতন মহলের। 
‎স্বাস্থ্য বিভাগের পরিবার পরিকল্পনার টানা ১১ দিনের কর্মসূচির ২য় দিনেও দেখা গেছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেটের সামনে ১৭ ইউনিয়নের এফডাব্লউভি,এফডব্লিউএ,এফপিআয়ের শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী রাষ্ট্র বিরোধী স্লোগান,স্বাস্থ্য আইন বহির্ভূত কর্মকান্ড সেবাদান বন্ধ রেখে একতাবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে জমায়েত হয়।
‎ সোস্যাল মিডিয়ায় একাধিক ফেইসবুক আইডিতে মণিরামপুরে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থায় চরম ভোগান্তিতে আছে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকবৃন্দ।অভিবাবক ও শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের জাতাঁকলে পিষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্যের তীর উঠেছে। অনেকেই আবার এ দুটি স্পর্শকাতর বিষশে অ-ব্যাবস্থাপনা হতে পরিত্রাণের জন্য সংশ্লিষ্ট  ২টি কর্তৃপক্ষকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর দাবিও জানিয়েছেন। উল্লেখ্য,গনঅভ্যুথানের পরবর্তী সময়ে দেশের প্রতিটি রাষ্ট্রীয় দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারি অদলবদল এমনকি অব্যহতি প্রদান করলেও শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিগত ফ্যাসিস্টদের প্রেত্বারা ঘাপটি মেরে থেকে যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ না পাই সে দিকেও খেয়ালের প্রয়োজন আছে বলে মন্তব্য উঠেছে।
‎প্রধন শিক্ষক জিএম মাকসুদুর রহমানের বিষয়টি তোড়জোড় শুরু হলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু মুত্তালিব প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন সহ সার্বিক বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যাবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান,প্রকৃতপক্ষে শিক্ষকদের এই সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে দিশেহসরা হয়ে পড়েছে অধিকাংশ অভিভাবক মহল। আমি আন্দোলনের পক্ষে না থেকে প্রত্যেক শিক্ষককে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে হাজির থাকার কথা জানিয়ে দিয়েছে।যদি কারো সম্পৃক্ততা মেলে,তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ